https://www.babycontents.com/ বয়স অনুসারে শিশুর খেলনা নির্বাচন করবেন কিভাবে?

বয়স অনুসারে শিশুর খেলনা নির্বাচন করবেন কিভাবে?

বয়স অনুসারে শিশুর খেলনা নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই বুঝতে পারেন না কম বয়সী শিশুকে কি খেলা দেবেন। জেনে নিন বিভিন্ন বয়সের শিশুদের খেলনা কেমন হওয়া উচিত।

শিশুকাল একজন ব্যক্তির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকা সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রতিভাবান ও সফল ব্যক্তিদের শিশুকাল নিয়ে গবেষণা হয়েছিলো, যেখানে ফেসবুকের স্রষ্টা মার্ক জাকারবার্গ এর মতো আরো অনেক সফল ব্যক্তিত্বরাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। গবেষণায় সফল ও অসফল ব্যক্তিদের শিশুকাল নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। তাতে শিশুর খেলনা ও পারিপার্শিক অবস্থার বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। তাই প্রত্যেক অভিভাবকের মনে রাখতে হবে, তার শিশুর ভবিষ্যৎ অনেকাংশে শিশুর খেলনার উপর নির্ভরশীল। মার্কেট থেকে খুব সচেতন ভাবে শিশুর বয়স অনুসারে খেলনা কিনতে হবে। এখানে আমরা, সেই গবেষণার আলোকে বয়স অনুসারে শিশুর খেলনা‌ কিভাবে নির্বাচন করবেন তা জানাবো।

০ থেকে ১ বছর বয়সের শিশুর খেলনাঃ

 সাধারণত ১৩ সপ্তাহ বয়সে আপনার শিশুটি ২০ ফুট দূরত্ব পর্যন্ত দেখতে পাবে সাথে বিভিন্ন রঙের পার্থক্যও বুঝতে পারবে। এই সময় সে হালকা শব্দের গান, মায়ের গায়ের সুগন্ধ অনুভব করতে পারে। সাথে সাথে সে হাতের কাছের যেকোনো জিনিস মুঠো করে ধরে ফেলতে শিখে, বিশেষত মায়ের চুল। এ সময় শিশুর সামনে আয়না ধরতে পারেন অথবা এমন কোনো খেলনা-যেখানে তার প্রতিবিম্ব দেখা যাবে। প্রথম বছর মসৃন, উজ্জ্বল বর্ণের ঝুনঝুনি বা খেলনা দিতে পারেন যা প্রতিদিন পরিষ্কার করা যায়।    

১ থেকে ২ বছর বয়সের শিশুদের জন্য খেলনাঃ

১ থেকে ২ বছর বয়সে শিশুরা হাঁটার চেষ্টা করে, তাই ওয়াকার দিতে পারেন যেন সে ঘরের আসবাবপত্র থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকে। এই সময় বাটন চাপ দিলে শব্দ হয় এমন খেলনা দিতে পারেন। এছাড়াও রঙিন ছবির বই, ধাক্কা দিলে শব্দ সহ নড়ে উঠে এমন খেলনা, প্লাস্টিকের বিভিন্ন পুতুল সহ যানবাহন দেয়া যেতে পারে। শিশুর গোসলের সময় পাত্রে রাবারের হাঁস বা নৌকা দিতে পারেন।

২ থেকে ৩ বছর বয়সীদের জন্য খেলনাঃ

এ সময় শিশুরা খুব সংবেদনশীল হয়ে উঠে। সাধারণত এই সময় ছেলে শিশুরা গাড়ি আর মেয়ে শিশুরা পুতুল নিয়ে খেলতে পছন্দ করে। যেমনঃ ব্লক দিয়ে শুন্য ঘর পূরণ অথবা কোন কিছু তৈরী করা, বিভিন্ন রঙের কার্ড, রান্না করার ছোট জিনিসপত্র, পোশাক সহ পুতুল, রং, কাগজ, চকবোর্ড, প্লাস্টিকের কাঁচি, প্রচুর ছবি সহ প্লাস্টিক মোড়ানো বই পছন্দ করে থাকে। তাই এই বয়সটাতে শিশুদের এই খেলনাগুলো দেওয়া যেতে পারে। সাধারণত এই বয়সে শিশুরা তাদের ছোট-বড় পেশীগুলোর ব্যবহার করতে শেখে। তখন বিভিন্ন ধরনের বল ও তিন চাকার সাইকেল বা খেলনা গাড়িও দিতে পারেন।

৩ থেকে ৫ বছর বয়স সময়ে শিশুর খেলনাঃ

সাধারণত এ বয়সের শিশুরা অনেক কথা বলে ও প্রশ্ন করে থাকে। তারা তাদের শারীরিক শক্তি দেখিয়ে দক্ষতা প্রদর্শনের চেষ্টা করে। তাই সেই সময় বল হাউস, স্লীপার, দোলনা, ছোটদের সাইকেল, ক্রিকেট খেলার সরঞ্জাম ও রিমোর্টের গাড়ি দিতে পারেন। বন্ধুদের সাথে খেলনা ভাগাভাগি করে খেলতেও তারা খুব বেশি পছন্দ করে। শিশুরা প্রচুর রং ব্যবহার করে ছবি আঁকার চেষ্টা করে। তখন হরেক রকমের রং, কাগজ, মার্কার, ক্লে, আঠা, কাঁচি, স্কচটেপ, ব্লক, প্লাস্টিকের জার ও বাটি দেওয়া যেতে পারে। এ সময় আপনি স্বল্পপরিসরে শিশুকে বিভিন্ন টেকনিক্যাল ডিভাইস যেমনঃ মোবাইল, কম্পিউটর ও বিভিন্ন সফটওয়্যার সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেন।

গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাসের সতর্কতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

পরিশেষে শিশুর খেলনা বিষয়ে সতর্কতাঃ

আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে, যেন কোন খেলনাই শিশুদের জন্য বিপজ্জনক না হয়। খেলনা নির্বাচনের সময় কোয়ালিটি ও ফিনিশিং এর দিকে বিশেষ নজর রাখবেন। কোন খেলনা কত বছর বয়সের শিশুর উপযুক্ত তা খেলনার প্যাকেটের  গায়ে লেখা থাকে, তা দেখে কিনবেন। সপ্তাহে একবার হলেও সব খেলনা জীবাণু মুক্ত করার চেষ্টা করবেন। কারণ শিশুরা বিভিন্ন জায়গায় খেলনা রেখে খেলাধুলা করে থাকে।

1 Comments

  1. education সম্পর্কে তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিসিট করুন - https://www.lekhaporarkotha.xyz

    ReplyDelete
Post a Comment
Previous Post Next Post