https://www.babycontents.com/ গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাসের সতর্কতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাসের সতর্কতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

আপনার অনাগত সন্তানের বিকাশের জন্য গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাসের সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভধারণের প্রথম মাস থেকেই মেনে চলুন চিকিৎসকের পরামর্শ।

গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাসের সতর্কতা, একটি সুস্থ এবং স্বাভাবিক শিশুর জন্মদান প্রক্রিয়া নিরাপদ করে। প্রত্যেকটি গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রেই গর্ভকালীন সময় তার জীবনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এ সময় নারীদের শারীরিক এবং মানসিক দিক দিয়ে আমূল পরিবর্তন দেখা দেয়। প্রথম সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক মায়েরাই এসব পরিবর্তনে ঘাবড়ে যান। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই এ সময়ে বেশিরভাগ পরিবর্তনগুলো খুব স্বাভাবিক। কিন্তু প্রথম তিন মাস যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন না করলে গর্ভপাতের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

এছাড়াও গর্ভাবস্থায় কিছু ক্ষতিকর লক্ষণ থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেমনঃ

রক্তক্ষরণ

অস্বাভাবিক রকম পেটে এবং কোমরে ব্যথা

অতিরিক্ত মাথা ব্যথা

খিঁচুনি

চোখে ঝাপসা দেখা

পেটের মাংশ পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া

অতিরিক্ত বমি

জ্বর

অন্যান্য অসুস্থতা

এই সমস্ত সমস্যা হলে দেরি না করে সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে চলে যাবেন। চলুন জেনে নেই গর্ভাবস্থায় একটি মায়ের কি কি মেনে চলা উচিত,

গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাসের সতর্কতা হিসেবে যা যা মেনে চলবেন

১. খাদ্যাভ্যাসঃ গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের বিকাশ এবং মায়ের সুস্থতার জন্য খাদ্যভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এসময় খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার দাবার রাখুন। এবং কিছু খাবার পরিহার করে চলুন। কারণ গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের জন্য কিছু খাবার ক্ষতিকর হতে পারে। যেমন কাঁচা পেঁপে, আনারস, জাঙ্ক ফুড, প্যাকেট জাতীয় খাদ্য, কোমল পানীয় অ্যালকোহল, ক্যাফেইন, চিজ, মেয়োনিজ ইত্যাদি। আপনার যদি আগে থেকেই কোন খাবারে এলার্জি থেকে থাকে তবে সেখানে আবার গ্রহণ করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।

২. ভারী কাজ এড়িয়ে চলুনঃ গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস আপনার ভ্রূন অনেক নাজুক অবস্থায় থাকে। তাই এ সময় যতটা সম্ভব ভারী কাজ এড়িয়ে চলুন। তা না হলে গর্ভপাতের সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। তবে ঘরের স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে কোনো বাধা নেই। এমনকি প্রতিদিন হালকা কিছু কাজ করলে আপনার নিজের এবং শিশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

৩. প্রথম দিন থেকেই ডাক্তারের পরামর্শ নিনঃ গর্ভাবস্থার প্রথম থেকেই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। অনেকেই মনে করেন প্রথম মাসগুলোতে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কোন দরকার নেই। একেবারে ডাক্তারের কাছে তখনি যান যখন জানতে চান গর্ভের সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে। তবে একটি মা এবং গর্ভস্থ শিশুর জন্য হতে পারে মারাত্মক হুমকির কারণ। প্রতি মাসে অন্তত একবার গর্ভবতী মাকে রুটিন চেকআপের জন্য নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

৪. পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুনঃ পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে আপনার এবং আপনার শিশুর শরীর হাইড্রেট থাকে। এটি মাথা ব্যথা, কিডনিতে পাথর এবং মাথা ঘোরা প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। ব্যবস্থা প্রথম দিকে খুব বেশি কোষ্ঠকাঠিন্য, পানিশূন্যতা অথবা আমাশয় এর সমস্যা হতে পারে। সেজন্য দিনে আট থেকে বারো গ্লাস পানি পান করা একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। 

৫. প্রতিদিন হালকা কিছু ব্যায়াম করুনঃ অনেকেই ধারণা গর্ভাবস্থায় ব্যায়াম করার কোন দরকার নেই এটা আরো শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক। তবে আপনি হয়তো জানেন না নিয়মিত হালকা ব্যায়াম আপনাকে এই প্রথম তিন মাসের ঘন ঘন মেজাজ, হরমোনের পরিবর্তন এবং ক্লান্তি মোকাবেলায় সহায়তা করে। এছাড়াও ব্যায়াম আপনার ওজন বাড়ানো এবং অনিদ্রা রোধেও সহায়তা করে।

৬. পরিমিত ঘুমঃ গর্ভাবস্থায় শিশুর বিকাশের ক্ষেত্রে পরিমিত ঘুম অতন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৈনিক আট থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম আপনার এবং আপনার শিশুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। আপনি যতই কাজ করুন না কেন ঠিক সময় মত বিশ্রাম এবং ঘুমিয়ে নিবেন। সম্ভব হলে দুপুরে খাওয়ার পর কিছুক্ষণ ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।

আরো পড়ুন - 

শিশুদের পড়ালেখায় মনোযোগী করার ৮টি দুর্দান্ত কৌশল

৭. যে কোন ধরনের ওষুধ সেবনে সাবধান হোনঃ গর্ভকালীন সময়ে ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত একটি ছোট ওষুধও হতে পারে আপনার অনাগত শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। সময় আপনি আগের মত হুটহাট যেকোন ওষুধ খেয়ে নিতে পারবেন না। তাই ছোটখাট অসুখেও যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করুন।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post