https://www.babycontents.com/ শিশুর সুষ্ঠু মানসিক বিকাশ গড়ে তুলতে এই ৫টি উপায় মেনে চলুন

শিশুর সুষ্ঠু মানসিক বিকাশ গড়ে তুলতে এই ৫টি উপায় মেনে চলুন

শিশুর মানসিক বিকাশ গড়ে ওঠে তার পরিবার থেকেই। তাই প্রত্যেকটি বাবা-মায়েরই দায়িত্ব শিশুর জন্মের পর থেকেই তার মানসিক বিকাশের দিকটা খেয়াল রাখা।

একটি শিশু জন্মের পর শারীরিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে শিশুর মানসিক বিকাশও ঘটতে থাকে। প্রত্যেক বাবা-মায়েরাই চান তার শিশুটির সুষ্ঠু মানসিক বিকাশ করে তুলতে। তবে খুব কম মানুষই জানেন শিশুর মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে কোন জিনিসগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কারন শিশুদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে বাবা-মায়েরা অনেক বেশি সচেতন হলেও তার মানসিক বিকাশ সম্পর্কে তেমন একটা গুরুত্বারোপ করেন না। তবে এটি কিন্তু একই রকম গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণত একটি শিশুর মানসিক বিকাশের সিংহভাগই গড়ে ওঠে জন্মের পর থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত। এরপর বয়স বাড়ার সাথে সাথে তা আরো বৃদ্ধি ঘটে এবং পরিমার্জিত হতে থাকে। আজ আলোচনা করবো শিশুর মানসিক বিকাশ গড়ে তোলার উপায় নিয়ে।  চলুন জেনে নেই...

শিশুর মানসিক বিকাশ গড়ে তোলার ৫টি উপায়

১. শুরু করুন গর্ভাবস্থা থেকেঃ

সাধারণত শিশুরা মায়ের পেট থেকেই অনেক কিছু অনুভব করতে পারে। এসময় পুষ্টিকর খাবারের সাথে সাথে মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও খেয়াল রাখাটা জরুরী। তবে আমাদের দেশে গর্ভাবস্থায় একটি মায়ের স্বাস্থের যতটা যত্ন নেওয়া হয়, তার মানসিক দিকের প্রতি তেমন একটা যত্নবান হতে দেখা যায় না। তাই সবার সাথে সাথে একজন হবু মায়েরও উচিত নিজেকে চিন্তামুক্ত এবং হাসিখুশি রাখা। মন ভালো থাকে এমন কাজগুলো বেশি বেশি করে করুন। গান শোনা, বইপড়া, ঘুরতে যাওয়া, প্রার্থনা করা, নিজেকে মানসিক চাপ থেকে মুক্ত রাখা শিশুর মানসিক বিকাশের সূচনা ঘটাতে সহায়তা করে।

২. শিশুর সাথে কথা বলুনঃ

শিশুদের সাথে যত কথা বলবেন তারা ততো সক্রিয় থাকবে। অনেকেই শিশুরা কথা শিখার আগ পর্যন্ত কোন কিছু বুঝতে পারেনা। তাই তাদের সাথে কথা বলে কোন লাভ নেই। কিন্তু এই ধারণাটা একদম ভুল। শিশুরা জন্মের পর থেকেই আপনার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বুঝতে পারে। আপনি তার সাথে কথা বললে সেও তার ভাষায় আপনাকে প্রতিক্রিয়া জানাবে। সমীক্ষায় দেখা গেছে যে শিশুদের সাথে বেশি কথা বলা হয় তারা তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যে কথা শিখে।

৩. শিশুদের সাথে খেলা করুনঃ

শিশুরা খেলতে পছন্দ করে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। জন্মের পর থেকেই শিশুর সাথে বাবারা খেলতে এবং সময় কাটাতে পছন্দ করেন। এসময় শিশুকে রংবেরঙের খেলনা দিয়ে তার সাথে খেলতে পারেন। এতে তারা খুব কম সময়ের মাঝেই বিভিন্ন ধরনের রঙের সাথে পরিচিত হতে পারবে। শিশুরা একটু বড় হলে তাদের সাথে বুদ্ধিমত্তার খেলা খেলতে পারেন। এতে শিশুর চিন্তাশক্তি বিকশিত হবে এবং তাদের সুষ্ঠু মানুসিক বিকাশ গড়ে উঠবে।

৪. শিশুদেরকে বেড়াতে নিয়ে যানঃ

ছোট শিশুরা বাহিরে ঘুরতে যেতে কিন্তু খুব পছন্দ করে। একবার ঘুরতে যাওয়ার নাম শুনলেই খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে বসে থাকে। তাই সপ্তাহে একদিন আপনার শিশুটিকে বাহিরে ঘুরতে নিয়ে যান। প্রকৃতির কাছাকাছি গেলে শিশুদের সাথে বড়দেরও মন ভাল থাকে। এছাড়া শিশুরা বাহিরের প্রকৃতি দেখেও অনেক কিছু শিখতে পারে। আপনার শিশুর মনকে সতেজ এবং চিন্তাশক্তিকে বিকশিত করতে বেড়াতে যাওয়ার বিকল্প নেই। 

৫. শিশুদের সকল প্রশ্নের উত্তর দিনঃ

শিশুরা নতুন নতুন কথা বলা শিখলেই ক্রমাগত প্রশ্ন করা শুরু করে দেয়। এটা কি? ওটা কেন? এটা কিভাবে? ইত্যাদি ইত্যাদি। আমরা বড়রা অনেক সময় শিশুদের এই অতিরিক্ত প্রশ্নের জন্য বিরক্ত হয়ে যাই। কিন্তু আপনি কি জানেন এই প্রশ্নের উত্তর আপনার শিশুর চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি করছে এবং মানষিক বিকাশ ঘটাতে সহায়তা করছে।

আরো পড়ুন- বাচ্চাদের খাবারে অরুচির ৫টি কারণ এবং করণীয়

তাই কখনো শিশুদের প্রশ্নে বিরক্ত হবেন না হাসিমুখে সব সময় তাদের প্রশ্নের সঠিক জবাব দেওয়ার চেষ্টা করবেন। মনে রাখবেন জন্মের পর থেকে পুরো পৃথিবীটাই কিন্তু তাদের কাছে একটি রহস্য। এই রহস্যের সমাধান যদি শৈশবে আপনার হাত ধরে শুরু করতে না পারে, তাহলে কিন্তু তার মানসিক বিকাশের শক্ত ভিত্তি গড়ে উঠবে না।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post