https://www.babycontents.com/ কিভাবে আপনার শিশুটিকে ছোটবেলা থেকেই নৈতিক মূল্যবোধ শিখাবেন?

কিভাবে আপনার শিশুটিকে ছোটবেলা থেকেই নৈতিক মূল্যবোধ শিখাবেন?

শিশুকাল থেকেই নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার সহায়ক। আপনার সন্তানকে শিষ্টাচার ও নৈতিকতার শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলছেন তো?

শিশুদের সুষ্ঠু বিকাশের ক্ষেত্রে শিষ্টাচার ও নৈতিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রত্যেকটি বাবা-মায়ের দায়িত্ব থাকে ছোটবেলা থেকেই তার শিশুটির ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়তা করা। আপনার সন্তানটিকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে তাকে ছোটবেলা থেকেই নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া অপরিহার্য। শিশুদের নৈতিক শিক্ষা নিয়ে অনেক বাবা মায়ের মনে কিছু প্রশ্ন থাকে, যেমন শিশুকে আসলে কোন বয়সে থেকে নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া উচিত। আমি বলব আপনার শিশুটিকে একদম ছোট থেকেই শিষ্টাচার ও নৈতিকতা শেখালে তারা সহজেই সেটাকে মেনে চলবে। চলুন জেনে নেই কিভাবে আপনার আদরের শিশুটিকে নৈতিক মূল্যবোধ শিখাবেন।

শিশুকে শিষ্টাচার ও নৈতিকতা শেখানোর কিছু সহজ উপায়

শিশুদেরকে নৈতিকতা শিখানো শুধুমাত্র বাবা-মায়ের দায়িত্বই নয়, দায়িত্বটা আসলে কিন্তু পুরো পরিবারের। একটি পরিবারে যদি আরো অনেক সদস্যরা থাকেন তাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব শিশুকে নৈতিক মূল্যবোধ শেখানো। দেখবেন পরিবারের সদস্যদের দেখে ধীরে ধীরে আপনার শিশুর নৈতিকতা ও মূল্যবোধের বিকাশ ঘটবে। আর এই মূল্যবোধের ভিত্তি শক্ত করতে যা যা করতে পারেন:

· শ্রদ্ধাবোধঃ আপনার শিশুটির মনে যেন বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে উঠে সে ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন। বাচ্চারা অনুকরণ করতে ভালোবাসে, তাই আপনার সন্তান যখন আপনাকে দেখবে অন্যকে শ্রদ্ধা করতে তখন সে সেটাই শিখবে। গুরুজনদের সালাম দিয়ে কথা বলতে লিখাতে হবে। মন রাখবেন বাচ্চাদের কিছু শিখাতে হলে আপনাকেও সেটা মেনে চলার চেষ্টা করতে হবে।

· সততাঃ বাচ্চাদের ছোটবেলা থেকে আমরা শেখাই সত্য কথা বলতে সঠিক ভাবে চলতে। কিন্তু আমরা নিজেরাই অনেক সময় বাচ্চাদের সামনে সত্য কথা বলতে ভুলে যাই। এবং নিজের অজান্তেই তাদেরকে আবার ছোটখাটো মিথ্যা কথাও বলতে শেখাই। এটা কখনোই করা যাবে না। আপনার শিশুটিকে সততা শেখানো সাথে সাথে আপনাকেও সে পথে চলতে হবে।

· ন্যায় পরায়ণতাঃ আপনার শিশুকে ছোটবেলা থেকেই ন্যায় এবং অন্যায়ের মধ্যে তফাৎ করতে শিখান। বাস্তবিক অর্থেই যাতে আপনার শিশুটি ন্যায় পথে চলে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করে সেদিকটা আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। তবেই তার মাঝেই নৈতিকতা মূল্যবোধ গড়ে উঠবে।

· সহযোগিতা এবং সহমর্মিতাঃ শিশুদের যতই ছোটবেলা থেকেই অপরকে সহযোগিতা অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন তবে সেটা তার মনে স্থায়ী হয়ে যায়। আপনার ছোট ছোট কাজে আপনার শিশুকে বলুন আপনাকে সহযোগিতা করতে। এতে ছোটবেলা থেকেই অন্যকে সহযোগীতা করার অভ্যাস গড়ে উঠবে। অপরের দুঃখে যাতে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেয় সে ব্যাপারে আপনার বাচ্চাটিকে শিক্ষা দিন।

· শিষ্টাচারঃ  শিশুদের ছোটবেলা থেকে ওনাদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে শিখান। তাদেরকে ভালো কাজের জন্য উৎসাহ দিন এবং পুরস্কৃত করুন। ভালো কাজের জন্য যখন আপনি তাকে পুরস্কৃত করবেন তখন সে ভালো ব্যবহার এবং ভালো কাজ করতে আরো আগ্রহী হয়ে উঠবে। সবার সাথে সদাচরণ করা, বিষয় এবং ভদ্রতার সাথে কথা বলা শিষ্টাচারের অংশ।

· ধর্মীয় শিক্ষাঃ শিশুদের নৈতিক অবকাঠামো গড়ে তোলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে ধর্মীয় শিক্ষা। একমাত্র ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে আপনি আপনার শিশুর মধ্যকার শিষ্টাচার এবং নৈতিকতার একটি শক্ত ভিত তৈরি করে গড়ে তুলতে পারবেন। আপনার শিশুকে ছোটবেলা থেকেই একাডেমিক পড়াশোনার সাথে সাথে ধর্মীয় শিক্ষা দিন।

শিশুদেরকে শিষ্টাচার এবং নৈতিকতা শিক্ষা দিতে যেয়ে আবার তার ছোট্ট মনের ওপর বেশি চাপ প্রয়োগ করতে যাবেন না। মনে রাখতে হবে শিশুরা অনেক কোমল হৃদয়ের হয়ে থাকে। আপনি ভালোবেসে ছোটবেলা থেকে তাদেরকে যা শিখাবেন তারা সেটাকেই অনুকরণ করবে। ধৈর্য ধরে তাদের মাঝে ছোট ছোট ভালো অভ্যাসগুলো গড়ে তুলতে হবে। এসব নৈতিক গুণাবলী আপনার শিশুকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। তাদের ছোটখাটো ভালো কাজকেও উৎসাহ দিতে কিন্তু ভুলবেন না।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post