https://www.babycontents.com/ কিভাবে শিশুদের করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে সুরক্ষিত রাখবেন?

কিভাবে শিশুদের করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে সুরক্ষিত রাখবেন?


এখনই সময় করোনা ভাইরাস থেকে আপনার শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মেনে চলুন এই পাঁচটি উপায়। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস থেকে আপনার আদরের শিশুটিকে রাখুন নিরাপদ এবং সুরক্ষিত।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পুরো বিশ্ব বর্তমানে রয়েছে চরম হুমকির মুখে। প্রত্যেক বাবা-মায়েরাই প্রাণঘাতী এই ভাইরাস থেকে তাদের শিশুর সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের ইউনিসেফ বাতলে দিয়েছে কিছু সতর্কতা এবং পরামর্শ।

স্বাস্থ্যবিদদের  মতে, শিশুদের ইমিউনিটি বড়দের চেয়ে তুলনামূলক কম হয়ে থাকে। তাই করোনা ভাইরাসের আক্রমণ শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য হতে পারে হুমকির কারণ। ঘরে এবং বাইরে শিশুদের ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে আপনাকে মেনে চলতে হবে কিছু নিয়মকানুন। চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে করোনা ভাইরাস থেকে আপনার শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন।

করোনাভাইরাস থেকে শিশুর সুরক্ষার উপায়ঃ

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশুরা আজকাল সারাদিন ঘরেই বসে থাকছে। এ সময় তাদেরকে মানসিক এবং শারীরিক ভাবে সুস্থ রাখাটা অত্যন্ত জরুরী। আপনি হয়তো ভাবছেন আপনার শিশুটি ঘরের বাইরে যাচ্ছে না তাই আপনার শিশুটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। কিন্তু এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। কারণ ঘরের অন্যান্য সদস্যরা ঘরের বাহিরে গেলে অথবা বাইরে থেকে কেউ ঘরে আসে তাহলে কিন্তু আপনার শিশুটি নিরাপদ নয়।

ইউনিসেফের সর্তকতা অনুযায়ী আপনার শিশুটির প্রতিদিনকার অভ্যাস কিছু পরিবর্তন আনুন। তাকে এই ভাইরাস সম্পর্কে এবং এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করুন। শিশুদের নিরাপদ রাখতে নিয়মিত কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে যেমনঃ

১. আপনার শিশুকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে অবগত করুনঃ প্রথমেই শিশুদেরকে এই ভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত করা উচিত। তবে সেটা একটু কৌশলে। কারণ শিশুরা অল্পতেই ঘাবরে যেতে পারে এবং ভয় পেয়ে তাদের মানসিক কোন সমস্যাও হতে পারে। তাই প্রথমে শান্তভাবে আপনার শিশুকে বুঝান যাতে সে নিজে থেকে সর্তকতা অবলম্বন করতে পারে। এই ভাইরাস নিয়ে তাদেরকে কোন রকম ভয় দেখাতে যাবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

২. কিছুক্ষণ পর পর শিশুকে হাত ধুতে বলুনঃ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা জানি প্রতিবেলা নিয়ম করে হাত ধুতে হয়। আপনার ছোট্ট শিশুটিকে কিছুক্ষণ পরপর হাত ধোয়ানোর অভ্যাস করুন। এই সময় আপনার শিশুকে বাহিরে অথবা লোক সমাগমে যেতে না দেওয়াই ভালো। এমনকি ঘরের কোন সদস্য বাইরে থেকে ঘরে আসলে তার থেকে আপনার শিশুকে দূরে রাখুন।

৩. শিশুকে পুষ্টিকর খাবার দিনঃ এইসময় শিশুদের ইমিউনিটি সিস্টেম ঠিক রাখাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিদিন আপনার শিশুকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ান। বাহিরের ফাস্টফুড, আইসক্রিম, কোল্ড ড্রিঙ্কস, অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার এই সময়ে শিশুদেরকে না দেয়াই ভালো। মোদ্দা কথা বাহিরে কোন খাবার এই সময় শিশুদেরকে দিবেন না। ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবার যেমন শাকসবজি, মাছ, ডিম, দুধ, গরুর কলিজা এইসব খাওয়াতে পারেন।

৪. ঘরের কেউ অসুস্থ হলে তার থেকে শিশুকে দূরে রাখুনঃ যেহেতু করোনা ভাইরাস মানুষের সংস্পর্শে আসলে তা ছড়াতে পারে। তাই যদি দেখেন ঘরের কেউ অসুস্থ হয়েছে অথবা জ্বর ঠান্ডা লেগেছে তাহলে আপনার শিশুকে তার সংস্পর্শে যেতে দেবেন না। অন্তত ১৪ দিন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে থাকার পর অসুস্থ ব্যক্তিটি সুস্থ হয়ে উঠলে তারপর আপনার শিশুকে তার সংস্পর্শে যেতে দিন।

৫. ডাক্তারের পরামর্শ নিনঃ আপনার শিশুর যে কোনো ছোটখাটো সমস্যায় ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সব সময় শিশুর স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখুন। এ সময় ফ্রীজের বাসি খাবার, ঠান্ডা পানি খাওয়া কিংবা ঠান্ডা লাগানো একদমই যাবে না। ঘরের পরিবেশ সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন যাতে আপনার শিশুটি ঘরের ভিতর একটি সুস্থ পরিবেশ পায়।


করোনার এই কঠিন সময়ে আমাদের সবাইকেই ধৈর্য ধরে সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করে চলতে হবে। এই প্রাদুর্ভাব থেকে শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিতে হবে তাদের বাড়তি যত্ন। এই করোনা প্রাদুর্ভাবেও যেন আপনার শিশুটি থাকে সুস্থ এবং হাসিখুশি।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post